Clicky

আউটসোর্সিংয়ে সফলতা এবং কিছু প্রসঙ্গ - Advance IT

আউটসোর্সিংয়ে সফলতা এবং কিছু প্রসঙ্গ

I never dreamed about success. I worked for it ” – sorry উক্তি টা আমার না। এইটা American famous woman entrepreneur “Estée Lauder” এর। অনেকেই এই উক্তির সাথে একমত হবেন না জানি, তারপর ও বলবো আমার পুরো লেখা মনোযোগ একবার পরুন, একমত না হয়ে পারবেন না।

estee lauder-wise-words

ইদানিং বাংলাদেশে খুব বেশি মাতামাতি হচ্ছে আউটসোর্সিং নিয়ে। রাতারাতি বড়লোক হবার বাহারি ও রকমারি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মানুষকে আকৃষ্ট করার পায়তারায় মত্ত আছে একটি শ্রেনী। অনলাইনে আয় করার এইসব বাহারি বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে প্রতারিতও হচ্ছেন অনেকে। কেউ কেউ আবার এই ক্ষেত্রটিকে ব্যাপক সমালোচিত এমএলএম ব্যাবসার সাথে গুলিয়ে ফেলছেন। বাস্তবে আসলে কি ? আউটসোর্সিং শব্দটি আমাদের দেশে যে খুব বেশি পরিচিত তা নয়, তবে অসাধু ব্যাবসায়ী আর চটকদার বিজ্ঞাপনের কল্যাণে শব্দটি এখন মানুষের মনে নানা কৌতুহলের জন্ম দিচ্ছে, এবং ইতিমধ্যে বাংলাদেশীদের কাছে অতি পরিচিত শব্দ হিসাবে সমাদৃত হচ্ছে। আবার কারো কারো কাছে নিন্দিত হচ্ছে। কিন্তু এমনটা হবার কথা ছিল না। এখন থেকে দশ বছর আগেও আমাদের দেশের মানুষ এই শব্দটির সাথে পরিচিত ছিল না। তখন যে আউটসোর্সিং এর কাজ হতনা তা নয়, কিন্তু এখনকার মত ছিল না। পরিবর্তনশীল এবং প্রতিযোগীতা মূলক বিশ্বায়নের এই সময়ে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে আর্থ-সামাজিক অস্থিরতার কারনে অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং অব্যবস্থাপনার কারনে বেকার সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশও এই পরিস্থিতির স্বীকার। যার ফলে বেকার যুবকদের পাশাপাশি স্বল্প আয়ের মানুষ জীবনের প্রয়োজনে বিকল্প আয়ের পথ খুজছে। এই সুযোগে আউটসোর্সিং শব্দটি বাংলাদেশের মানুষের মাঝে দ্রুত প্রসার লাভ করছে, এবং ভবিষ্যতে আরও করবে।

কিন্তু আসলে কি এই আউটসোর্সিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এইসকল সমস্যার সমাধান সম্ভব ? এর সঠিক উত্তর হল পুরোপুরি না হলেও অনেকাংশেই সম্ভব। তবে এর পেছনে অনেকগুলি কিন্তু জড়িত ! যেমন আমাদের দেশে এখন হরহামেশাই শোনা যায় একটি কথা, সহজ উপায়ে অনলাইনে আয়। আমার কথা হল, এত সহজে যদি অনলাইনে কাড়ি কাড়ি ডলার/টাকা কামানো যেত তাহলে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ স্রেফ টাকা উপার্যনের জন্য দিন রাত খাটা খাটুনি বন্ধ করে একখানা কম্পিউটার আর ইন্টারনেট কানেকশন নিয়ে যার যার ঘরে বসে যেত, আর ডলার আয় করত। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা একটু ভিন্ন। আসলে আপনার যদি দক্ষতা থাকে তাহলে আউটসোর্সং সেক্টরে আপনি সফল হবেন। আউটসোর্সিং এর ভিন্নতাটুকু হল, এখানে কাজ করা এবং কাজ পাবার স্বাধীনতাটুকু আছে যা আপনি অন্য পেশায় পাবেন না। আর একটা পার্থক্য হল আপনার পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন এখানে পাবেন এবং তার জন্য উপযুক্ত সম্মানী পাবেন, অন্যান্য পেশায় যার জন্য প্রতিনিয়ত কর্তা ব্যাক্তিদের সাথে কর্মকর্তাদের মন কাষাকষি লেগেই থাকে, যা আউটসোর্সিং এ নেই। এক কথায় আউটসোর্সিং হল সঠিক কাজ করে সহজ উপায়ে আয় করার একটি মাধ্যম। যেখানে সফল হতে হলে আপনাকে প্রথমেই দক্ষতা অর্জন করতে হবে, এবং কাজ করার জন্য সঠিক প্লাটফর্মে আসতে হবে।

আগে জেনে নেই আউটসোর্সিং তথা ফ্রিল্যান্সিং কি ? একটু সহজ ভাবে বললে, ইন্টারনেটের ব্যাবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের কাজ করিয়ে নেয়। আর এই কাজ গুলো বণ্টন করার জন্য বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস  আছে । নিজ প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কাউকে দিয়ে এসব কাজ করানোকে আউটসোর্সিং বলে। ফ্রিল্যান্সিং শব্দের মূল অর্থ হল মুক্ত পেশা। অর্থাৎ মুক্তভাবে কাজ করে আয় করার পেশা। যারা আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে দেন, তাঁদের ফ্রিল্যান্সার বলে।

আমার কাছে প্রতিদিন প্রায় ২০/৩০ টা ফোন আসে – আউটসোর্সিংয়ের কাজ শেখার ব্যাপারে, তারা প্রত্যেকেই কমবেশি জানতে চায় আমি কি কি বিষয়ের উপর ট্রেইনিং দেই, কি কি সুযোগ সুবিধা পাবে ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে একটা প্রশ্ন আমাকে খুবই আহত করে যখন তাদের কেউ কেউ জানতে চায়, ভাই এই কোর্স করে সিউর ভাবে মাসে ৫০/৬০ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারব তো ?? যথারীতি আমার উত্তর থাকে –
” হাঁ পারবেন তবে ঠিক ৩/৪ মাস পরই যে ৫০/৬০ হাজার ইনকাম করবেন সেই গ্যারান্টি দিতে পারব না। তবে আপনাকে আত্মবিশ্বাসী, পরিশ্রমী, সর্বোপরি ধৈর্যশীল হতে হবে। শুধু মাত্র কোর্সের উপর কখনই নির্ভর করা যাবে না, পাশাপাশি প্রচুর পড়াশোনা করতে হবে এবং ভালো ভালো রিসোর্স থেকে জানার আগ্রহ থাকতে হবে। এই প্রতিযোগিতামূলক মার্কেটে শুধু কোর্স করলে হবে না, কাজ পাবার ক্ষেত্রে নিজের creativity কেও কাজে লাগাতে হবে। কখন সফল হবেন, এটা নির্ভর করছে কাজের বিষয়গুলো আপনি কতটুকু গভীর ভাবে জানেন।”

“There are two kinds of professionals in the world — the ones who just work hard, and the others who work hard and work smart. The greatest level of success comes to the people who find a balance between hard work and smart work. This is certainly true in the world of Internet marketing.” : Harsh Agrawal

এই সব শোনার পর ভর্তি প্রত্যাশী সেই ভদ্রলোক/ভদ্রমহিলা/ ছেলে/ মেয়ের মন খারাপ করে ফোনটা রেখে দেয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে দোষটা কার আমার নাকি ফোন কলের সেই মানুষগুলোর? না, দোষ আমাদের কারোই না, যে ব্যক্তি স্বল্প সময়ে মাসে ৫০/৬০ হাজার টাকা আয়ের স্বপ্ন লালন করে কাজ শিখতে আসছে, তার বিন্দুমাত্র দোষ নেই, দোষ হচ্ছে কতিপয় অসাধু প্রচারকারীর, যারা নিজেদের ট্রেইনিং ব্যবসার প্রসারের জন্য বলে আসছে – এই কোর্স করুন/ অমুক কোর্স করুন, আর কোর্স শেষ হবার পর নিশ্চিত ভাবে ৫০ হাজার থেকে লক্ষ টাকা ইনকাম করুন। কিংবা ২/১ জন সফলদের ইনকাম ইতিহাস দেখিয়ে প্রলোভন দেখাচ্ছে ,

“দেখেন ভাই এটা হচ্ছে মফা ভাইয়ের (কাল্পনিক নাম) ইনকাম পোর্টফলিও, উনি আমাদের এখানে কোর্স করে মাসে ১ লাখের উপর ইনকাম করছে ।”

আমি মানলাম মফা ভাই মাসে ১ লাখ ইনকাম করছে, ধরে নিলাম ৩/৪ মাস পর থেকেই করছে। তবে এটা কি ঠিক না ১/২ জন ৩/৪ মাসের কোর্স করেই ১ লাখ ইনকাম করছে বলেই সবাই তাই করবে !!! মফা ভাই যেটা করেছে অইটা exceptional বিষয়, আর আমার মত অনেকই বিশ্বাস করেন, ” Exceptional things, never be an example “

এই লেভেলের ইনকাম টা নির্ভর করছে ৪০ ভাগ যে শেখাচ্ছে তার উপর আর বাকি ৬০ ভাগ যে শিখছে তার উপর। আমি যদি ভালো মত আপনাকে শেখাতে না পারি তাহলে আপনার ৬০ ভাগ সম্পূর্ণ অন্ধকারে থাকবে। আমি সম্পূর্ণ জোর দিয়েই বলতে পারি আমার কোনও স্টুডেন্ট বলতে পারবে না যে আমি শেখানোর ব্যাপারে কোন প্রকার কার্পণ্য করি, শেখানোর সময় নিজের সবটুকু জ্ঞান দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আপনারা আল্লাহর রহমতে ভালই বুঝতে পারেন। তবে কেন বাকি ৬০ ভাগের প্রতি যত্নবান হচ্ছেন না?

এই সব নানাবিধ কারনে অনেকে Training Center গুলোর উপর ব্যাপক হারে ক্ষেপে আছেন। ক্ষ্যাপার অবশ্যই কারন আছে, বাংলাদেশের Training Center গুলো যেভাবে চকচকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে স্টুডেন্ট ভর্তি করিয়ে নিচ্ছে, এটা উদ্বেগজনক ই বটে। অনেকই অনেক কষ্ট করে টাকা মেনেজ করে বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি হচ্ছে effective কিছু শেখার আশায়, কিন্তু আশানুরুপ কিছুই পাচ্ছে না, বেসিক কিছু জিনিস হাতে ধরিয়ে দিয়ে কোর্স শেষ করে দিচ্ছে। আমার কথা হচ্ছে আপনি বিজ্ঞাপনে যা বলছেন, টা পুরন করার ক্ষমতা যদি না থাকে তাহলে কেন না জানা মানুষ গুলোর টাকা হজম করে নিচ্ছেন ? কেন এই সেক্টর টার অপমান করছেন? এসব ধোঁকাবাজ দের জন্যই কিছু মাথা মোটা আঁতেল বলে থাকেন, আপনি ফ্রীলাঞ্চিং , এফিলিয়েট করে হাগার হাগার ডলার ইনকাম করেন, তাইলে আপনার ট্রেইনিং করানোর দরকার কি? আঁতেল ভাই এবার আপনার জন্য কিছু বলছি। ধরুন, আপনি বড় মাপের একজন  এস ই ও এক্সপার্ট। আপনার এলাকার বেকার দের একটা লিস্ট বানালেন, লিস্টে দেখা গেলো ৫০০ জন বেকারের নাম আসছে। এইবার আপনি উদ্যোগ নিলেন তাঁদের কে “এস ই ও”  কাজ দিবেন। কাজ দেবার আগে তাদের কে কাজ শিখাতে হবে। আপনি তাঁদের কে বললেন, আপনারা বিভিন্ন ফ্রী সোর্স থেকে, ইউটিউব থেকে, গুগল ঘাঁটা ঘাঁটি কাজ শিখে নেন, এর জন্য ৬ মাস সময় দিলেন। ৬ মাস পর আপনি নিশ্চিত ভাবে দেখবেন, ফ্রী সোর্স থেকে ভালমানের কাজ শিখতে পেরছে মাত্র ২০ জন। আর ৪৮০ জনের কি হল ? তারা কেন পারল না? তারা কেন পারে নাই, এই জন্য তাঁদের দোষ দিয়ে লাভ নাই, যারা পারেন নাই তাঁদের কে কয়েকটা গ্রুপে ভাগ করি।

অনেকে শুরু করেছেন ঠিক ই কিন্তু বুঝে উঠতে পারছেন না কোথা থেকে শুরু করা উচিত।

কেউ কেউ শিখার এক পর্যায় হতাশ হয়ে পরছেন, কারন তার মাথার মধ্যে অনেক প্রশ্ন অলরেডি ঘুরপাক খাচ্ছে, এইগুলার আনসার না পাওয়া পর্যন্ত সামনে এগুতে পারছেন না। ফেসবুকে আমাদের দেশীয় অনেক হেল্পিং গ্রুপ আছে, যেখান থেকে অনেক হেল্প পাওয়া যায়, কিন্তু দেখা যায় ১০ টা প্রশ্ন করলে ১ টার উত্তর পাওয়া যায়, জটিল কোন প্রশ্ন হলে উত্তর পাবার আশা বাদ দেন।

সব থেকে বড় ব্যাপার হোল ফ্রী সোর্স গুলোতে কোন টপিক ই গভীর ভাবে দেখানো হয় না, বড় একটা গ্যাপ থেকেই যায়। এই ব্যাপার টা অনেকেই ভালভাবে ফিল করেন। এই গ্যাপ টা পূরণের জন্য বিভিন্ন এক্সপার্ট দের কাছে  ধর্না দেন, কোন লাভ হয় না। এক্সপার্ট রা এত কষ্ট করে স্কিল্ড হয়েছেন, কেন কিংবা কোন যুক্তিতে ফ্রী তে আপনাকে সব সিক্রেট দিয়ে দিবে? এইটা বুঝেও অনেকে আর এগোনোর আশা পান না।  এই কথায় অনেকেই আমার সাথে একমত হবেন।

আবার অনেকেই আছেন একেবারে হাতে ধরে দেখিয়ে না দিলে সহজে বুঝতে পারেন না, কারন সবার মেধা এক না।

এই  রকম আরও একাধিক কারনে মানুষ গুলো Training Center মুখি হয়। এই জন্যই Training Center এর মাধমে অথবা quality DVD materials ( আবার কিছু ডিভিডি প্রতারক থেকেও সাবধান থাকবেন। অনেকেই আছেন যারা মান্ধাতার আমলে তৈরি করা ডিভিডি বছরের পর বছর চালিয়ে দিচ্ছে ) এর মাধ্যমে কাওকে না কাওকে এগিয়ে আসতে হয়।  অন্তত এমন একজন মেনটরের খোঁজে, যার হাত ধরে সঠিক রাস্তায় হাঁটবেন এবং আসল জিনিষ টা শিখতে পারবেন, যেখানে কোন গ্যাপ থাকবে না, যাতে লক্ষ্য পুরন টা অনেক সহজ হয়। আর এইটা কখনই আশা করা ঠিক না যে, তিনি আপনাকে ফ্রী তে সব শিখিয়ে দিবেন। যে  শিখাচ্ছে তার সময়ের একটা দাম আছে। তাছাড়া ফ্রী তে কোন কিছু পেলে কেন জানি সেইটার মর্যাদা আমরা রাখতে পারি না।

আবার অনেকেই এই আশায় থাকেন, যার কাছ থেকে কাজ শিখছেন, সেই trainer ই আপনাকে কাজ দিতেই থাকবে, এই ব্যাপারে আমার কথা হচ্ছে- সে আপনাকে ইঙ্কাম করার জন্য কাজগুলো যত্নের সাথে শেখাবে, তারপর আপনাকে ইনকাম করার জন্য সঠিক পথগুলো দেখাবে এবং কিভাবে দ্রুত সফল হবেন সেই ব্যাপারে দিক নির্দেশনা দিবে, আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করার করার জন্য পাশে থাকবে। এরপর আপনার কাজ হবে, যা শিখলেন তার উপর আরও বেশি বেশি চর্চা করা, প্রতিদিন ৫/৬ ঘণ্টা সময় নিয়ে কাজ খোঁজা। আপনাকেই আপনার পায়ের নিচের মাটি তথা আপনার INCOME FOUNDATION STRONGLY BUILD UP করতে হবে। হাঁ,এটা ঠিক যে কাজ শেখার পাশাপাশি রিয়েল কিছু project এ প্রাকটিস করতে পারলে, কাজগুলো আরও ভালোভাবে শেখা যায়। কাজ শেখার ১ম ধাপেই আপনার একমাত্র ধ্যান থাকবে- learn. learn, learn, more and more learn.

আজকাল আমাদের মধ্যে একটা ধারনা বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছে, আউটসোর্সিংয়ের কাজ মানে upwok, fiverr, people per hour, freelancer এর কাজ করা। এই তখাকথিত ধারনা থেকেই কাজ শিখে এই কয়েকটা মার্কেট প্লেসে প্রোফাইল ক্রিয়েট করে ১০/১২ টা বিড করেন, ৯৯% ভাগই কোন interview রিপ্লায় না পেয়ে ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিংয়ের জগৎ থেকে হতাশ হয়ে GOOD BYE বলেন। কিন্তু এমনটা কেন হবে? আপনাকে বুঝতে হবে আপনি শুধু একা বিড করছেন না, এইটা প্রতিযোগীটামূলক মার্কেট, আপনার প্রথমেই বোঝা উঠিত- ধৈর্যশীল,আত্মবিশ্বাসী, পরিশ্রমী না হলে এই সেক্টর আপনার জন্য না। সফলতা অর্জনের জন্য শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না, তার জন্য পরিশ্রম করতে হবে, স্বপ্ন কে লালন করতে হবে। স্বপ্ন পূরণের জন্য পরিশ্রমের পাশাপাশি আল্লাহর কাছেও  চাইতে হবে।

আউটসোর্সিংয়ের কাজের জন্য শুধুমাত্র upwok, fiverr, people per hour, freelancer উপর নির্ভরতা কমাতে হবে। আজাকাল আউটসোর্সিংয়ের কাজের জন্য আপনারা SEO, SMM, Video Marketing, Web design, Graphic Design, article writing ইত্যাদি বিভিন্ন কাজ শিখছেন। এই কাজ গুলো কি শুধুই upwok, fiverr, people per hour, freelancer এ পাওয়া যায়। একবার কি আমাদের লোকাল মার্কেট কে যাচাই করে দেখেছেন? দেশীয় অনলাইন জব পোর্টাল গুলোতে (bdjobs, prothom-alo jobs, etc.) সার্চ করে দেখেন, এসব কাজের জন্য ভুঁড়ি ভুঁড়ি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। যেখানে শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়ে আপনার কাজের দক্ষতাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। এখন বলবেন, ” ভাই অনেক কাজ করায় কিন্তু বেতন খুব অল্প” । আমার কথা হচ্ছে আমরা কবে আমাদের নাক উঁচা মনোভাব পরিবর্তন করব? এসব জায়গায় কাজ করে অন্তত নিজেকে ঝালাই তো করে নিতে পারবেন।

পরিশ্রম না করে বা কম পরিশ্রমে অধিক আয়, এসবই প্রতারণা। যখন কোন একজন দেশের প্রচলিত ব্যবস্থায় আমার যোগ্যতার চেয়ে আমাকে বেশী দিতে চাই, সেটা নির্ঘাত মিথ্যা আর প্রতারণায় ভরা হবে, এই ছোট্ট বিষয়টা আমরা কেন বুঝিনা? আসলে আমরা অলস আর লোভী, তাই এই প্রতারকদের সহজ টার্গেটও আমরা। সুতরাং ইউটিউব কিংবা ফেসবুকে দেখা চকচকে বিজ্ঞাপনে প্রলোভিত হবেন না।

যারা SEO COURSE করেছেন বা করছেন বা কাজ করছেন, তাদের বলবো নিম্নোক্ত  সাইট গুলার আর্টিকেল গুলো রেগুলার ভালো মত পড়ুন, নিজেকে আপ-টু-ডেট রাখুন।

  1. http://backlinko.com/
  2. https://www.searchenginejournal.com/
  3. http://searchengineland.com/
  4. https://www.kissmetrics.com/
  5. https://searchenginewatch.com/
  6. http://www.seobook.com/blog
  7. https://moz.com/blog
  8. https://www.seroundtable.com/category/google-updates
  9. http://contentmarketinginstitute.com/
  10. http://blog.hubspot.com/marketing

নিজেকে পরিপূর্ণ ভাবে দক্ষ করে তুলুন। সেই কাঙ্খিত ৪০/৫০ হাজার টাকা আপনার কাছেই এসে ধরা দিবে।

আমি যেহেতু এস ই ও র উপর ই কাজ করছি তাই এই ব্যাপারে বলবো, এস ই ও র কাজ শেখার পর মার্কেট প্লেস গুলোতে কাজ খোজার পাশাপাশি নিজে কয়েকটা high-paying টপিক বাছাই করে ওয়েবসাইট বানান, তার জন্য ৩০/৪০ টা আর্টিকেল লিখেন, যথাযথ ভাবে আর্টিকেল গুলো সাইটে পোস্ট করুন, ভালমত অন-পেইজ এস এ ও করুন, ভালো ব্যাকলিঙ্ক তৈরি করুন, সোশ্যাল সাইটে মার্কেটিং করুন- গুগলের ১ম পেজে নিয়ে আসুন সাইটগুলা, সাইটে ভালো ট্রাফিক আসা শুরু করলে গুগল অ্যাডসেন্স (A Complete Google Adsense Guide for Beginners) এর জন্য আবেদন করুন, বুঝে-শুনে সব ঠিক মত করলে অ্যাডসেন্স Approve হয়ে যাবে ইনশা-আল্লাহ। আপনার যদি অন্তত ৫টা ওয়েবসাইট থাকে এবং ভালো ট্রাফিক থাকে, তাহলে অবশ্যই মাসে ৪০০/৫০০ ডলার ( ৩০/৪০ হাজার টাকা ) ইনকাম করা করা ব্যাপার না। ৫টা সাইট করতে ম্যাক্সিমাম ১ মাস লাগবে আপনার, তারপর এস ই ওর জন্য ধরেন ৬ মাস। ফ্রিল্যান্সিং এ ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখেন অথচ ৬টা মাস ধৈর্য নিয়ে নিজেকে ডেভেলাপ করতে রাজি নন??

আপনি যেহেতু কাজ জানেন তাহলে কেন শুধু মার্কেট প্লেসের ইঙ্কামের আশায় আছেন? যে সময়টুকু তে আপনি কাজ খুঁজতে খুঁজতে হতাশ হচ্ছেন, সেই সময় গুলোতে এই কাজ গুলো করে ফেল্লেই কিন্তু আপনি অনেক এগিয়ে যাবেন, অন্যদিকে নিজের দক্ষতাও অনেক বাড়বে, যা আপনাকে মার্কেট প্লেসগুলোতে কাজ পেতে অনেক হেল্প করবে। বিড করার সময় কভার লেটারে আপনার তৈরি করা সাইট গুলো রেফারেন্স হিসেবে দেখাতে পারবেন। এতে মার্কেট প্লেসে কাজ পাবার সম্ভাবনা ৮০ ভাগ বেড়ে যাবে। পোর্টফলিও যত ভারী হবে কাজও তত দ্রুত পাবেন, আপনার আত্মবিশ্বাস ও অনেক বেড়ে যাবে। আর মার্কেটপ্লেসে কাজে এপ্লাই করার সময় ছোট ছোট কাজগুলো আগে টার্গেট করুন এবং যে কাজ গুলো আপনি ভালমত করতে পারবেন, যত অল্প টাকার কাজই হোক না, আগে নিজের ভিত মজবুত করুন।

অথবা ইউটিউব এ চ্যানেল তৈরি করেন, যে টপিকের উপর সার্চ বেশি রিসার্চ করে বের করুন, ভালো ভালো ভিডিও তৈরি করুন, ভিডিও তৈরি করার জন্য যে আহামরি এডিটিং জানতে হবে, এমন কিছুই লাগবে না। ইউটিউব এ অ্যাডসেন্স অ্যাড করুন, কমপক্ষে ২০ টা চ্যানেল ক্রিয়েট করুন, প্রতিটা তে ১০০ টা করে ভিডিও আপলোড করেন, আপনি এস ই ও জানেন, সুতরাং ভিডিওগুলো প্রপারলি মার্কেটিং করুন। এই সবগুলো কাজ কমপ্লিট করতে ৬ মাস সময় দিন। এবার ও বলছি এই মেথড পুরোপুরি মেনে চললে মাসে ৩০/৪০ হাজার টাকা ইনকাম করা কোনও ব্যাপার না। ইউটিউব মার্কেটিং এর জন্য ইউটিউব এ সার্চ করে ফ্রী ভিডিও গুলো সার্চ করে দেখতে পারেন।  

Help link: 9 Hacks to Rank YouTube Videos in Google

একটা মেথড তো বলাই হল না, “AMAZON AFFILIATE MARKETING“. যাকে বলে ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কেট (Amazon is The World’s 2nd Trillion Dollar Company)। যারা ভালো এস ই ও এবং আর্টিকেল লিখতে পারেন তাদের জন্য এই মার্কেট ইনকামের গোল্ডেন storage. আমার মতে, Keyword Research, Competitor Analysis, on-page seo, off-page seo সম্পর্কে পারফ্যাক্ট স্কিল থাকলে একটা আমাজন নিশ সাইট (এখানে নিশ হলো আপনার সাইটটা কোন প্রোডাক্ট এর ওপর হবে বা আপনার ব্যবসার সাবজেক্টটা কি?) থেকে মাসে ১ হাজার ডলার ইনকাম করা কোনও ব্যাপার না। সাধারণত একটা নিশ সাইট Rank হয়ে গেলে ঐ সাইটের জন্য তেমন কোনো কাজ করা লাগে না। ইনকাম তখন অটোমেটিক হয়। আর মজাটা তখনই। আর এইটাই প্যাসিভ ইনকামের সবথেকে নির্ভরযোগ্য উপায়। আর এটাই হচ্ছে আমার সব থেকে প্রিয় আরনিং প্লাটফর্ম। আপনি কাজগুলা নিজে না অন্য কাওকে দিয়ে করিয়ে নিয়েও প্যাসিভ ইনকাম করা সম্ভব।

প্যাসিভ এবং একটিভ ইনকামের মধ্যে পার্থক্যঃ ধরুন, আপনি একটা চাকুরী করেন এবং মাসে ২০ হাজার টাকা সেলারি পাচ্ছেন, আপনার যদি চাকুরীটা চলে যায় তাহলে আপনার মাসিক ২০,০০০ টাকার সোর্স বন্ধ হয়ে যাবে। অথবা ক্লায়েন্টদের জন্য ফ্রিল্যান্স কাজ করেন, সেখানে মান্থলি ৩০ হাজার টাকা উপার্জন করেন। যদি কোনও কাজ আর না করেন কিংবা কাজ না পান তাহলে তাহলে আপনার মাসিক ৩০,০০০ টাকার সোর্স বন্ধ হয়ে যাবে। সুতরাং আপনি সক্রিয়ভাবে কাজ করে যে উপার্জন করছেন সেইটাই একটিভ ইনকাম (ACTIVE INCOME)।

অন্যদিকে, আপনি যখন আপনার অর্থ আপনার জন্য কাজে লাগান তখন প্যাসিভ আয় অর্জিত হয়। উদাহরণস্বরূপঃ বাড়ি থেকে ভাড়া, ব্যাংক ফিক্সড ডিপোজিট, ইত্যাদি। ধরুন আপনি একটি বাড়ি বানালেন ভাড়া দেয়ার উদ্দেশ্যে। বাড়ি বানাতে আপনার সময়, শ্রম, ও অর্থ সবই দিতে হয়েছে। এরপর যখন আপনার বাড়ি বানানো হয়ে গেলো, তখন আপনি “TO-LET” লাগিয়ে ভাড়াটিয়া উঠিয়ে দিলেন। এবার মাসে মাসে আপনি ভাড়া পাচ্ছেন, কিন্তু আপনার ওই আয়ের জন্য আর কিছুই করতে হচ্ছে না। এটা অফলাইনে একটি ভালো প্যাসিভ ইনকামের উদাহরণ।

অনলাইন থেকে প্যাসিভ ইনকামের উপায়ঃ অনলাইনের প্যাসিভ ইনকাম তৈরী করতে অফলাইনের মতো এতো এতো টাকা, সময়, ও শ্রম দিতে হয় না। আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং – সব থেকে স্মার্ট ও স্বাচ্ছন্দ্যময় একটি প্যাসিভ ইনকাম সোর্স। যেখানে আপনি অ্যাফিলিয়েট নিশ ওয়েবসাইট করলেন, বেশ কিছু আর্টিকেল পোস্ট করলেন, ভালভাবে এস ই ও করলেন এবং গুগল ১ম পেজে নিয়ে আসলেন। আপনার সাইটটা যখন একটা ভাল অবস্থানে চলে আসবে, তখনই কিন্তু সাইট থেকে ইনকাম শুরু হয়ে যাবে। এক বৎসর খুব ভালভাবে কাজ করলে সেই সাইট থেকে মাসে ৫০০/৬০০ ডলার খুব সহজেই ইনকাম করা সম্ভব এবং এই ব্যাপারে কোনও দ্বিমত নাই। এরপর কিন্তু সেই সাইটের জন্য খুব বেশি সময় দেয়া লাগবে না। সপ্তাহে মাত্র ৭/৮ ঘন্টা কাজ করলেই সাইটটা ভালভাবে মেইনটেইন করতে পারবেন। এভাবে পরবর্তীতে খুব একটা কাজ না করেও মাসে মাসে একটা ফিক্সড ইনকাম হতে থাকবে। প্যাসিভ ইনকাম (PASSIVE INCOME) হলো এমন একটি ইনকাম ব্যবস্থা যেখানে টাকা আয় করতে গেলে আপনাকে সবসময় তার সাথে লেগে থাকতে হয় না।

অনেক মানুষের কাছে প্যাসিফ ইনকাম একটি স্বপ্নের মত। এটি হচ্ছে ঘুমের মধ্যে টাকা আয়ের একটি উপায়ের মত, এর সাহায্যে দেশেবিদেশে ঘুরে বেড়ানো সম্ভব, সপ্তাহে মাত্র ৭/৮ ঘন্টা কাজ করেই।

প্রথম কথা হচ্ছে অনলাইন কাজ করা মানে হচ্ছে সারা দুনিয়াটাই আপনার মার্কেট। শুধু একান্ত ভাবে লেগে থাকে অনলাইন এফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে আপনার সফলতা ১০০% নিশ্চিত। এখানে আপনি আপনার বস। তার মানে চাকরি হারানোর বা সেল কম হলে জবাবদিহিতার কোনো বালাই নাই। সঠিক পরিকল্পনা এবং ধৈর্য নিয়ে কাজ শুরু করলে অবশ্যই সফল হবেন।

আপনি চাইলে আমাদের কাছেও হাতে কলমে অ‍্যামাজন অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিং স্টেপ বাই স্টেপ শিখতে পারেন।

– প্রোডাক্ট/নিশ সিলেকশন প্রসেস – অ‍্যামাজন অ‍্যাফিলিয়েট এর জন্য কি-ওয়ার্ড রিসার্চ প্রসেস – কম্পিটিশন আনাল্যসিস – এল এস আই/লংটেইল কি-ওয়ার্ড রিসার্চ প্রসেস – কি-ওয়ার্ড ফাইনালাইজেশন প্রসেস – ডোমেইন রিসার্চ/ডোমেইন ফাইনালাইজেশন প্রসেস – হোস্টিং নির্বাচন  – অ্যামাজন প্রোডাক্ট রিভিউ রাইটিং প্রসেস – কিভাবে রিভিউ কন্টেন্ট আউটসোর্স করবেন – কিভাবে অ‍্যামাজন নিশ ওয়েবসাইট বানাবেন (ফুল্ প্রসেস হাতে কলমে শেখানো হবে ) – ওয়ার্ডপ্রেস থিম নির্বাচন- সেটআপ- প্লাগিন সেটআপ- ইত্যাদি – আর্টিকেল কিভাবে পাবলিশ করবেন – কিভাবে অন-পেজ করবেন – নিশ ওয়েবসাইট গুগল ১ম পেজ এ আনার জন্য অ্যাডভান্স লিঙ্ক বিল্ডিং ষ্ট্র্যাটেজি – অ্যামাজন এসোসিয়েটস অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলবেন – অ্যামাজন ট্র্যাকিং আইডি সেট আপ – পে -আওট সিস্টেম – সর্বপরি নিশ সাইট থেকে কিভাবে মনিটাইজ করবেন। সবসময়ের জন্য সাপোর্ট থাকবে ইনশাআল্লাহ।

এতক্ষণ ধরে হাজার হাজার ডলার ইঙ্কামের  ওয়ে বল্লাম। তবে প্রপার স্কিল ডেভেলপ না করে কাজে নামলে ফলাফল হবে শুন্য (০)। আর সর্বোপরি পরিশ্রমী, অক্লান্ত চেষ্টা এবং ইনকামের ব্যাপারে passionate হতে হবে। Most Importantly, রাতারাতি বড়লোক হবার দিবা স্বপ্ন পরিহার করতে হবে।

একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন, “slow and steady wins the race”. While doing anything we must not forget that nothing worthwhile can be achieved in a single day or overnight and that every achievement takes time. Patient and persistent effort will beat the labors of a spasmodic (irregular) Hercules. একজন সফল ফ্রীলেন্সার হবার জন্য প্রতিদিন নিজেকে অল্প অল্প করে গড়ে তুলন। ১মাস টানা কাজ শিখলেন তারপর ৬ মাস বসে থাকলেন, ফলাফল কিন্ত জিরো (০)। একটা ব্যাপার একটু ভেবে দেখুন- আপনি লেখাপড়া কেন করছেন? সেই ক্লাস ১ থেকে শুরু করে অনার্স/ মাস্টার্স পর্যন্ত পড়াশোনা করছেন। প্রায় ২০ বছর একটানা লেখাপড়া শেষ করে একটা ভালো চাকুরীর আশা করছেন। চাকুরীটা পেয়েও গেলেন- বেতন :২০,০০০ টাকা। তাহলে তো বলতে হয়, আমি যে দুটো উক্তির কথা বললাম, দুইটাই মেনে নিয়েছেন,  ১ম I never dreamed about success. I worked for it– ভালো জব আপনার স্বপ্ন- তাই সেটা অর্জনের জন্য ২০ বছরের পরিশ্রম এবং স্কিল ডেভেলাপ । ২য় “slow and steady wins the race”– ২০ টা বছর একটা ভালো জবের জন্য নিজেকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছেন। তাহলে কিভাবে ভাবলেন  আউটসোর্সিংয়ের কাজ ২/৩ মাসে শিখে মাসে ৫০/৬০ হাজার টাকা ইনকাম করবেন?? এইটা তো ম্যাজিক না। অনলাইন আউটসোর্সিংয়ের কাজ করতে গেলে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের উপর আপনাকে স্কিল ডেভেলাপ করতেই হবে, পর্যাপ্ত টাইম বিনিয়োগ করতে হবে। সেটা অবশ্যই ২০ বছর না । ৬ মাস থেকে ১ বছরের নিবিড় এবং অক্লান্ত পরিশ্রমে আপনি কিন্তু ২০ বছর কষ্ট করে যে টাকা ইনকাম করেছেন, তার থেকে ডাবল ইনকাম করতে পারবেন। এইগুলা আপনার কাছে নিছক কল্পনা মনে হতে পারে। But this is the real Truth.

মজার ব্যাপার হচ্ছে আমরা হাজার হাজার ডলার ইনকামের স্বপ্ন দেখি কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য বিন্দুমাত্র চেষ্টা করতে নারাজ। প্রিয় মাহবুব ভাইয়ের কথাগুলা মনে পরে গেলো, আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় অন্তরায় আপনি নিজে। কারণ, বনের বাঘে খায় না, মনের বাঘে খায়। ৯৯% লোক তাদের লক্ষে পৌছতে পারে না, কারণ তারা যাত্রা শুরুই করে না। ধরেন, আপনি পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে চান। অন্য কেউ উঠতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গেছে বা মাঝপথে কুকুরে কামড়িয়ে জ্বলাতঙ্ক বাধিয়ে দিয়েছে। সেই ভয় যদি আপনাকে ঘায়েল করে ফেলে তাইলে আপনার লক্ষ্য হওয়া উচিত, পাহাড়ের তলায় ঝালমুড়ি বিক্রি করা। ব্যপারটা এমন না যে, আপনি এক দৌড়ে চূড়ায় উঠে যাবেন বরং চূড়াটা আপনার লংটার্ম গোল কিন্তু শর্টটার্ম লক্ষ্য হবে পরবর্তী দশ হাত। এই দশ হাত উঠার পর নেক্সট টার্গেট পরবর্তী পনেরো হাত। তারপর আপনার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী উপরে উঠার স্ট্রাটেজি বা এপ্রোচ এডজাস্ট করবেন। এমনও হতে পারে, মাঝপথে এসে আপনার বাথরুম চেপে গেলো, তখন নিচে নেমে বদনা ভর্তি পানি বা টয়লেট টিস্যু নিয়ে যেতে হলো। এইরকম একাধিক বার আপনাকে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। খুবই কমই কাজ আপনি এক চান্সে ফিনিশ করে ফেলবেন।

আপনি যতোটা মরিয়া হয়ে ফেইসবুক চালান, ততোটা মরিয়া হয়ে কাজ করলে, আপনার লক্ষের অর্ধেক রাস্তা পার হয়ে যেতেন অনেক আগেই। আর দেরী নয়, জাস্ট শুরু করে দেন। পরাজিত হবার ভয়ে আপনি যদি মাঠে খেলতেই না নামেন তাইলে কোনোদিন জিততে পারবেন না। জিততে হলে আপনাকে মাঠে নামতেই হবে। হোচট খাইতেই হবে। আপনার পায়ে চোট লাগলে সেটা কতক্ষণ থাকবে। ১০-২০ মিনিট, ১-২ ঘন্টা, ১-২দিন, ৩-৪ সপ্তাহ নচেৎ ১ বছর। তারপর কিন্তু ঠিকই ব্যথা নাই হয়ে যাবে, ক্ষত শুকিয়ে যাবে, দাগ মুছে যাবে। এই চোট নিয়ে আপনি সারা জীবন বসে থাকতে পারেন বা মাঠে নেমে আবার চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন। সাকসেসফুল হবার একটাই কারণ হচ্ছে চেষ্টা। এক বা দুইবার নয় বরং হাজার হাজার বার চেষ্টা। সফল না হওয়া পর্যন্ত চেষ্টা। একেবারে শেষ দেখে নেবার চেষ্টা। যতবার ব্যর্থতা আসবে ততবার সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার শুরু করার চেষ্টা। এক বা দুইবার নয় হাজার হাজার বার ট্রাই করার পর যিনি ইলেকট্রিক বাল্ব আবিস্কার করছেন, তিনি বলেছেন, “I have not failed. I’ve just found 10,000 ways that won’t work.”

সুতরাং আর দেরি নই। স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা আজ থেকেই শুরু হউক। কারও মিথ্যা গ্যারান্টি তে না গলে এগিয়ে যান নিজ উদ্যোগে।

প্রথমে ১টাকা ইনকাম ( উদাহরন হিসেবে বলা হয়েছে ) করুন, তারপর চিন্তা করুন এটাকে কিভাবে ডাবল করা যায়, যখন দেখবেন ডাবল হচ্ছে না, তাহলে অবশ্যই ধরে নিতে হবে আপনার জানার ভেতর কোথাও কোনও ঘাটতি আছে, সেটা আগে পুরন করুন, তারপর আবার চেষ্টা করুন, দেখবেন আপনি সফল হবেন ইনশা-আল্লাহ। এভাবে ধীরে ধীরে নিজেকে তৈরি করতে থাকুন। দেখবেন আপনার ইঙ্কামের সেই ছোট্ট মাটির ব্যাঙ্কটি এক সময় Dutch-Bangla Bank হয়ে গেছে। আল্লাহ মানুষ কে অনেক ক্ষমতা দিয়েছেন। পারব না , আমার দ্বারা হবে না এসব কথা ভুলেও মনে করবেন না। নিজের সর্বচ্চো চেষ্টাটা দিন, সফল আপনি হবেনই। জাস্ট ৬ টা মাস পরিশ্রম করুন। ইনশাল্লাহ মাসে অন্তুত ২৫/৩০ হাজার টাকা শিওর ইনকাম করতে পারবেন। আজ এই পর্যন্তই । সবাই ভালো থাকুন।